- This event has passed.
Saraswati Puja 2026
February 1 @ 10:00 am - 5:00 pm
Saraswati Pujo 2026
CCI 2026 — Saraswati Pujo Highlights
বিদেশের মাটিতে দেশের ছোঁয়া: সিসিআই-এর সরস্বতী পূজো
✍️ সুগত চক্রবর্তী • ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
□ Livingston Lodge
□️ February 1, 2026
□ Saraswati Pujo
গত রবিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, আমাদের সিসিআই পরিবারের ২০২৬ সালের সরস্বতী পূজো সাফল্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো। একেবারে বাঙালি আবহে, দেশের মতো করেই বাগদেবীর আরাধনা করা হল। এ বছর মার্কিন দেশে এই সময়ে ঠান্ডা বেশ জাঁকিয়ে পড়েছে, সঙ্গে চলছে অবিরাম তুষারপাত। সেই কারণেই আমাদের পূজোর দিন নতুন করে নির্ধারণ করতে হয়েছিল।
রবিবার সকালে ঠান্ডা থাকলেও আকাশ ছিল রোদে ঝলমলে। সকাল সকালই পূজোর জায়গা, লিভিংস্টোন লজে, পৌঁছে দেখি, আমাদের সদস্যদের উদ্যোগে প্রায় সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন। পণ্ডিতজীও উপস্থিত হয়ে গেছেন বাগদেবীর পূজো সম্পাদনের জন্য। রবিবার ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও সিসিআই পরিবারের বহু পরিচিত এবং নতুন মুখের সঙ্গে আবার দেখা হয়ে গেল—যা সিসিআই-এর প্রতিটি অনুষ্ঠানে আমার বিশেষ ভালো লাগে। এখানে প্রত্যেক সদস্য নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও অঙ্গীকারবদ্ধ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই প্রতিবার একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠান উপহার দেওয়া সম্ভব হয়।
সময়মতো পণ্ডিতজী পূজো সম্পন্ন করলেন। এরপর পুষ্পাঞ্জলি, হাতে খড়ি অনুষ্ঠান এবং প্রসাদ গ্রহণ। প্রসাদের তালিকায় ছিল ফল, মিষ্টি, খিচুড়ি, লুচি, আলুর দম, চাটনি—ভোগ খেয়ে আমরা প্রস্তুতি নিলাম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার।
আমাদের শিশু শিল্পীরা গান, নাচ, আবৃত্তি ও যন্ত্রসংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে সকলকে মুগ্ধ করে তুললো। পাশাপাশি ছিল একটি শ্রুতি নাটক, যার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা আশা রাখেন—নাটকটি সত্যিই শ্রুতি-মধুর হয়ে উঠেছিল। প্রতিটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার নেপথ্যে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। একটি সরস্বতী পূজোয় যে ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা থাকে, তার পূর্ণ প্রতিফলন আমরা এই অনুষ্ঠানে দেখতে পেয়েছি। আগামী দিনে আমাদের এই শিল্পীদের কাছ থেকে আরও অনেক নতুন সৃষ্টির প্রত্যাশা রইল।
এরপর শুরু হলো মধ্যাহ্নভোজ। মেনুতে ছিল খিচুড়ি, পাঁপড়, বেগুনি, বাঁধাকপির তরকারি, পাঁচমিশালি তরকারি, চাটনি, পায়েস ও সন্দেশ—একেবারে দেশের স্বাদ ও স্মৃতি ফিরিয়ে দেওয়ার মতো।
এ বছরের সরস্বতী পূজা উপলক্ষে আমরা একটি মহৎ সামাজিক অনুদান প্রকল্প গ্রহণ করেছিলাম। মূলত আমাদের পরিবারের কয়েকজন নারী সদস্যদের উদ্যোগে শাড়ি ও অর্থ সংগ্রহের এই আয়োজনটি করা হয়। পরিবারের অনেক সদস্যরা তাঁদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে শাড়ি এবং আর্থিক অনুদান দেন৷ পূজার দিন আবার লটারির মাধ্যমে শাড়ী গুলো সেই সদস্যদেরই মধ্যে বিতরণ করা হয় সাম্মানিক হিসেবে। সংগৃহীত যাবতীয় অর্থ ভবিষ্যতে ভারতের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনেকে অবশ্য শাড়ি বা অর্থ দিয়েই সহায়তা করেছেন এই উদ্যোগে, কিন্তু সাম্মানিক নেন নি৷ সিসিআই এই মহৎ প্রচেষ্টার অংশ হতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত। ধন্যবাদ জানাই সকল সদস্যদের যাঁরা দান ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই প্রকল্পটিকে সফল করেছেন। বিশেষ কৃতজ্ঞতা আমাদের ‘প্রমিলা বাহিনী’কে, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সুন্দর ভাবনার বাস্তব রূপায়ন সম্ভব হয়েছে। বিজয়ীদের হাসিমুখ এই আয়োজনকে এক সার্থক ‘উইন-উইন সিচুয়েশনে’ পরিণত করেছে।
সবশেষে বিদায়ের পালা। একরাশ আনন্দ ও তৃপ্তি নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। আবার ধন্যবাদ জানাই সিসিআই-এর বোর্ড অব ট্রাস্টি ও স্বেচ্ছাসেবকদের—যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এত সুন্দর, দেশের মতো একটি সরস্বতী পূজো সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনে সিসিআই-এর পরবর্তী অনুষ্ঠানগুলোতে আবার মিলিত হওয়ার আশায় রইলাম। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন—এই ঠান্ডায় নিজের যত্ন নেবেন।□□□□
